ভারতের মুসলিম এবং তার বিষম পরিণতি (চৌত্রিশ/শেষ পর্ব) Print
Written by অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়   
Saturday, 06 January 2018 18:47

চাকরির বাজারে মুসলমানদের উপস্থিতি কতটুকু। নাম-কা-ওয়াস্তে।গৌতম রায়ের একটি বিবৃতিই এখানে সরাসরি উল্লেখ করা যাক – “অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলমান সম্প্রদায়জাত মানুষ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে যে বঞ্চনার শিকার তার অপরাধের দায় আমাদের প্রত্যেক দেশবাসীর, এই অর্থনৈতিক বঞ্চনাই তাদের মধ্যেকার সামাজিক পরিবর্তনের অন্তরায়। এই সমস্যাটির প্রতি কারো বিশেষ নজর নেই। অথচ সবাইই দেখতে ব্যস্ত মুসলমান সমাজের অনগ্রসরতা। কোন্ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট একজন মুসলমান সম্প্রদায়জাত মানুষ সামাজিক নিগ্রহের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে ধর্মীয় কোটরে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে বজায় রাখবার চেষ্টা করে তা কেউ ভেবে দেখেছেন ? মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে আজ যাঁরা নানা কথা বলছেন তাঁরা একবারও ভেবেছেন মুসলমান সম্প্রদায় আজ গোটা দেশে কোন্ পর্যায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক শোষণ, বঞ্চনার আবর্তে পড়ে রয়েছেন ? একদা কংগ্রেস আমলে উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে মুসলমান নিয়োগ বন্ধ ছিল।

 

তৎকালীন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (উত্তরপ্রদেশের) রাজ্য বিধানসভায় এই তথ্য স্বীকার করেছেন, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী মহাবীর ত্যাগী সংসদে স্বীকার করেছিলেন, স্বাধীনতার পর রেল, যোগাযোগ, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বিভাগে মুসলমানের অনুপাত ৩২ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ২ শতাংশ। সর্দার প্যাটেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সার্কুলার জারি করেছিলেন, প্রশাসনের মূল এবং নিয়ন্ত্রক ক্ষেত্রগুলিতে যেন মুসলমানদের প্রবেশ না-ঘটে।…অথচ ১৯৭১ সালে তালুকদার কমিশন বলছে, সেইসময় রাজ্যে ক্যাডারদের ২৬৪ জন আইএএস অফিসারের মধ্যে মাত্র ২ জন মুসলমান সম্প্রদায়জাত। গোপাল সিং কমিটির বক্তব্য হল, অসম পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের প্রথম শ্রেণির অফিসারের মধ্যে ১ জনও মুসলমান নেই। ১৯৯৭ সালে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগমের এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ২২ শতাংশ মুসলমান থাকলেও তার মাত্র ২ শতাংশের বেশি মানুষকে চাকরি দেওয়া যায়নি। ১৯৫৬-৫৭ সালে তৎকালীন বিরোধী নেতা জ্যোতি বসুর সমালোচনার চাপে পড়ে ডঃ বিধানচন্দ্র রায় ২ শতাংশ মুসলমানকে চাকরি দিয়েছিলেন। ’৮৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চাকরি পায় ৯,১৩৮ জন। তার মধ্যে মুসলমান ৩৭১ জন, অর্থাৎ ৪.০৬ শতাংশ। ’৮৭ সালে ১০,২৫৩ জন, মুসলমান ২১৪ জন, ২.০৯ শতাংশ। ’৮৮ সালে ১২,২৯৮ জন, ৪০৯ জন মুসলমান, ৩.৩৩ শতাংশ। ’৮৯ সালে ৯,৯৮৪ জন, মুসলমান ৩৮৬ জন, ৩.৮৭ শতাংশ।’৯০ সালে ৯,৪৯৪ জন, মুসলমান ৪৩৯ জন, ৪.৬২ শতাংশ। ’৯১ সালে ৯,৮৪৯ জন, মুসলমান ৪৪৫ জন, ৪.৫১ শতাংশ। ’৯২ সালে ৭,৩১৮ জন, মুসলমান ২৯২ জন, ৩.৯৫ শতাংশ। ’৯৩ সালে ৫,৬৭৫ জন, মুসলমান ৩১৪ জন, ৩.৭৭ শতাংশ।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য হল, এই সময়কালে যতজন মুসলমান সম্প্রদায়জাত মানুষ চাকরি পেয়েছেন তার মধ্যে ২.৩১ শতাংশ নিযুক্ত হয়েছে পর্যটন দপ্তরে, ২.৪১ শতাংশ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে, ৩ শতাংশ মৎস্য দপ্তরে, খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরে অফিসার পদে ২.০৮ শতাংশ, এই বিভাগের সাধারণ পদে ৪.৭০ শতাংশ, পরিবহন দপ্তরে ৫.৫৭ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে বর্ধমান জেলায় প্রাথমিক স্কুলে ৪ হাজার শিক্ষক নিযুক্ত হয়, তার মধ্যে ১১ জন মুসলমান, ’৯৬ সালে মুর্শিদাবাদ জেলায় নিযুক্ত ৬৪০ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৪০ জন মুসলমান।”

 

সারা ভরতের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের অংশগ্রহণ বিষয়ে সাচার কমিটির রিপোর্ট বলছে – (১) অন্ধ্রপ্রদেশে (জনসংখ্যা ৯.২ শতাংশ) ৮.৮ শতাংশ, (২) আসাম (জনসংখ্যা ৩০.৯ শতাংশ) ১১.২ শতাংশ, (৩) উত্তরপ্রদেশ (জনসংখ্যা ১৮.৫ শতাংশ) ৫.১ শতাংশ, (৪) কর্ণাটক (জনসংখ্যা ১২.২ শতাংশ) ৮.৫ শতাংশ, (৫) কেরল (জনসংখ্যা ২৪.৭ শতাংশ) ১০.৪ শতাংশ, (৬) গুজরাট (জনসংখ্যা ৯.১ শতাংশ) ৫.৪ শতাংশ, (৭) ঝাড়খণ্ড (জনসংখ্যা ১৩.৮ শতাংশ) ৬.৭ শতাংশ, (৮) তামিলনাড়ু (জনসংখ্যা ৫.৬ শতাংশ) ৩.২ শতাংশ, (৯) দিল্লি (জনসংখ্যা ১১.৭ শতাংশ) ৩.২ শতাংশ, (১০) পশ্চিমবঙ্গ (জনসংখ্যা ২৫.২ শতাংশ) ২.১ শতাংশ, (১১) বিহার (জনসংখ্যা ১৬.৫ শতাংশ) ৭.৬ শতাংশ, (১২) মহারাষ্ট্র (জনসংখ্যা ১০.৬ শতাংশ) ৪.৪ শতাংশ ইত্যাদি। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরিতে (ভারতীয় রেল) মুসলমানদের পদভিত্তিক সাচার কমিশনের খতিয়ান – উচ্চপদে হিন্দু ৯২.৮ শতাংশ (মুসলমান ৩ শতাংশ), অধস্তন হিন্দু ৮৮.৬ শতাংশ (মুসলমান ৫ শতাংশ), গ্রুপ এ হিন্দু ৯৩.৮ শতাংশ (মুসলমান ২.৫ শতাংশ), গ্রুপ বি হিন্দু ৯১.৫ শতাংশ (মুসলমান ৩.৪ শতাংশ), গ্রুপ সি হিন্দু ৮৮.৫ (মুসলমান ৪.৯ শতাংশ), গ্রুপ ডি হিন্দু ৮৮.৭ (মুসলমান ৫ শতাংশ)। জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে উচ্চপদে হিন্দু ৮৭.৫ শতাংশ (মুসলমান ৩.৬ শতাংশ), অধস্তন হিন্দু ৮৮.৭ শতাংশ (মুসলমান ৪.৬ শতাংশ), গ্রুপ এ হিন্দু ৮৬ শতাংশ (মুসলমান ৩.১ শতাংশ), গ্রুপ বি হিন্দু ৮৮.২ শতাংশ (মুসলমান ৩.৯ শতাংশ), গ্রুপ সি হিন্দু ৮৮.৭ (মুসলমান ৪.৬ শতাংশ), গ্রুপ ডি হিন্দু ৮৯.৩ (মুসলমান ৪.৩ শতাংশ)।ভারতে দলিতদের অবস্থা তো মুসলমানদের থেকেও খারাপ।ভারতের মূলস্রোতে এদের তুলে আনতে বর্ণহিন্দুরা ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য ব্যর্থ হয়েছে বলাটা ব্যাকরণগতভাবে ভুল বলা হল, সদ্দিচ্ছাটাই তো নেই।

এতএব কেবল মুসলমানই নয়, ভারতে অন্যান্য সংখ্যালঘুদের অবস্থাও তথৈবচ।সংখ্যাগুরুদের চাপে সংখ্যালঘু দলিতদের জিভ বেরিয়ে যাচ্ছে। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে দলিতরা ধর্মান্তরিত হয়ে যাচ্ছে।কেউ বৌদ্ধ হচ্ছেন, কেউ খ্রিস্টান হচ্ছেন, কেউ-বা মুসলমান হয়ে যাচ্ছেন – প্রতিদিন। সব ধর্মের সংখ্যাগুরুরাই সংখ্যালঘুদের দাসানুদাস মনে করে, কীটাণুকীট মনে করে।সংখ্যাগুরুরা মনে করে তারা যা বলবে সংখ্যালঘুরা তাইই মাথা পেতে মেনে নেবে।অন্যায় ধরিয়ে দিতে পারবে না, বিদ্রোহ করতে পারবে না, প্রতিবাদ করতে পারবে না – করলেই ‘দেশদ্রোহী’র সার্টিফিকেট হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।কী ভারত, কী বাংলাদেশ, কী পাকিস্তান, কী জার্মান, কী মায়ানমার – সব দেশেই একই চিত্র। দেশ-ধর্ম-জাতি-নির্বিশেষে সংখ্যাগুরুরা বড়োই বজ্জাত। একা থাকব, একা খাবো, একা পরবো মন-মানসিকতা এদের – বাকি সব দূর হাঁটো।

ভারতে যুযুধান পক্ষ যে কেবলই হিন্দু-মুসলমান, তা কিন্তু নয়। বর্ণহিন্দুর সঙ্গে বর্ণহিন্দু, বর্ণহিন্দুর সঙ্গে দলিত-হিন্দুর, সুন্নি মুসলমানের সঙ্গে শিয়া মুসলমানের, শিয়া মুসলমানের সঙ্গে শিয়া মুসলমানের, সুন্নি মুসলমানের সঙ্গে সুন্নি মুসলমান – সংঘর্ষ সর্বত্র। পার্থক্য একটাই – হিন্দু-মুসলমানের সংঘর্ষ হলে সেটা দাঙ্গা, অন্য ক্ষেত্রে সেটা মামুলি ঝামেলা।আর দাঙ্গা মানে লকলকে আগুন, গুজবের বাতাস পেয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়িয়ে পড়ে সেই ধ্বংসলীলায়। গুজরাট দাঙ্গা প্রসঙ্গে তপন মিত্র লিখেছেন – “সংখ্যায় হা্মলাবাজরা কয়েকশো বা কয়েক হাজার নয়, প্রায় বারো লক্ষ। যথেষ্ট সংখ্যায় মেয়েও আছে তাদের মধ্যে। পুলিশ-প্রশাসনে সাহয্য হামলার দিকে। খোলাখুলি। যে পুলিশ লুট, খুন থামাতে গেছে, সেই ২৭ জন বদলি হয়েছে। …কিন্তু আমার ভারী ভয় জেগেছে। জীবনে কখনও এত ভয় পাইনি। বহু শতাব্দী আগের পাথর ফলক থেকে জানি যে, এক হিন্দু রাজার বাহিনী ৬৪,০০০ বৌদ্ধকে কোতল করেছিল একদিনে। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধি হত্যার পর দিল্লিতে ৩০০০ শিখ খুন হয়েছিল কয়েক হাজার উন্মত্ত হিন্দু হামলাবাজদের হাতে, তিনদিনে। ১৯৯২ এবং ১৯৯৩ সালের দাঙ্গায় হিন্দু ও মুসলমান মরেছিল ৩০০০, ৮/১০ দিনে। কিন্তু ৫০ দিন ধরে ১২ লক্ষ হামলাবাজ খুন-লুট-দাহ করেই চলেছে। এমন কখনও হয়নি এদেশে।” গুজরাট দাঙ্গা প্রসঙ্গে দেবেশ রায়ের বক্তব্যও অনুধাবনযোগ্য – “গত পঁয়ত্রিশ বছরে ভারতে যতগুলি দাঙ্গা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এর কোনো জায়গাতেই মুসলমানরা আত্মরক্ষার সুযোগ পায়নি। আর এর প্রতিটি জায়গাতেই রজ্য সরকার নিজের উদাসীনতা দিয়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার সময় দিয়েছে ও নিজের নীরব হুকুমে স্থানীয় পুলিশকে পর্যন্ত ব্যারাকে বসে থাকতে বাধ্য করেছে। … এই দাঙ্গায় মুসলমানেরা প্রাণে মরেছে বেশি, আশ্রয় হারিয়েছে বেশি, জীবিকা হারিয়েছে বেশি। এমন কোনো দাঙ্গা হয়নি যে দাঙ্গায় মোট খুনের ৭০ শতাংশ মুসলমান নয়। বাবরি মসজিদের পরের দাঙ্গাগুলিতে এই অনুপাত ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।”

দাঙ্গার ইতিহাস এবং সেই দাঙ্গা ক্ষয়ক্ষতি, কারা খুন করেছিল, কারা খুন হয়েছিল সবই এখানে উল্লেখ করা যায়। আমার প্রবন্ধটি দাঙ্গার ইতিহাস নয়, ভারতে মুসলমান। তাই মুসলমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরি। যাই হোক, দাঙ্গা লাগিয়ে যারা লক্ষ লক্ষ মানুষদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত ছিল। কোনো দেশে হয় না। শাস্তি হয়েছে বলে আমি অন্তত শুনিনি। কার বা কাদের অঙ্গুলি হেলনে দাঙ্গার হত্যাকারীদের শাস্তি হয় না সেটা ভাবা দরকার।তাহলে কি দাঙ্গা চলছে, চলবে ! হত্যা চলছে, চলবে !

যতদিন-না একটি দেশের সমস্ত মানুষ সমস্ত জাতি সমস্ত শ্রেণি আলোকিত হবে, ততদিন পর্যন্ত একটি রাষ্ট্র কোনো উন্নতি সাধন করতে পারে না। চাই সমান অধিকার। দয়া নয়, অনুকম্পা নয় – কোলে টেনে নিতে হবে যোগ্যতায়, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়। রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষণ রেখেছে। কী হবে সেই সংরক্ষণে যে সংরক্ষণ মর্যাদা দেয় না, অচ্ছ্যুত করে রাখে ! ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাই চাকরি বা কর্মসংস্থান এবং বাসস্থান।মুসলমানদের শিক্ষাদীক্ষা ও দক্ষতা যথেষ্ট নেই একথা সবটা নাহলেও কিছুটা সত্যি। কিন্তু যেসব মুসলমানদের যথাযথ যোগ্যতা ও দক্ষতা আছে তারা উপযুক্ত চাকরি পায় ? না, পায় না। পায় না মুসলমান বলেই। সরকারি ক্ষেত্রে শতকরা দুই/চার শতাংশ চাকরি জুটলেও বেসরকারি ক্ষেত্রে আরও ভয়ানক অবস্থা। চাকরি তো দূরের কথা, মুসলমান না-হয়েও চুনি কোটালরা শিক্ষার অধিকার পায় না এ দেশে, আত্মহত্যা করে বাঁচতে হয়। বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মুসলমানদের প্রবেশাধিকারই নেই। আমি দেখেছি, আমার অফিসে কর্মী নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউয়ের দিন একজন মুসলিম মেয়ে ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তুখোড় মেয়ে – যোগ্যতায় এবং দক্ষতায়।মুসলমান বলেই তাকে বাতিল করা হয়েছিল।চাকরিটা হয়নি। এই বৈষম্য সর্বত্র, কমবেশি।এ তো গেল চাকরি। এবার যদি বাসস্থানের দিকটা দেখি সেখানেও একই অবস্থা। গ্রাম বা মফসসল থেকে বহু ছেলেমেয়ে কলকাতা আসে পড়াশোনা করতে। সেক্ষেত্রে কলকাতায় থেকেই পড়াশোনাটা করতে হয়।এক্ষেত্রে হিন্দুদের ক্ষেত্রে থাকার ব্যবস্থা হয়ে গেলেও মুসলমানদের ক্ষেত্রে থাকার ঘর পাওয়া খুব দুষ্কর।মুসলমান বলে কেউ ঘর ভাড়া দিতে চায় না।হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে পিজি বা মেসে পড়াশোনা করছেন এমন দৃশ্য অতি বিরল। যেসব মেসে বা পিজিতে মুসলমান ছেলেমেয়েরা থাকার সুযোগ পায় তারা সকলেই মুসলমান হয়ে থাকে।এমন বাড়িও বিরল যারা মুসলমানদের ঘর দেন থাকতে। গরিব ঘরের মুসলিম মেয়ে/বউরা শহরে আসে লোকের বাড়িতে কাজ করতে। অবশ্য মুসলিম নামে তারা কাজ পাবেন না কোনো হিন্দুর বাড়িতে, তাই নাম ভাঁড়িয়ে হিন্দুনাম নিয়ে কাজ জোটায়। যারা ‘ব্যতিক্রম’ প্রত্যক্ষ করেছেন, তারা ভাগ্যবান। আমারও কিছু প্রত্যক্ষ হয়েছে। আমিও দেখেছি হিন্দু মালিকের হোটেলে মুসলমান ম্যানেজার। হিন্দুদের বিরিয়ানির দোকানের কারিগর তো বেশিরভাগই মুসলিম। আমার বাড়িতে যে রাজমিস্ত্রি ও তার সহযোগীরা কাজ করে তারা তো অনেকে মুসলমানই। আমি যার দোকান থেকে প্রতি রবিবার খাসির মাংস কিনি সেও তো মুসলমানই।

যতই সদিচ্ছা থাকুক, সংখ্যাগুরুদের পক্ষে সংখ্যালঘুদের মানসিকতা উপলব্ধি করা শুধু কঠিনই নয়, অসম্ভব।পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মুসলমানরা যেমন সংখ্যালঘু হিন্দুদের অসহায়তা উপলব্ধি করতে পারে না, ঠিক তেমনই ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দুরাও সংখ্যালঘু মুসলমান তদুপরি দলিতদের অসহায়তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ।এর কারণ ঘৃণা। ঘৃণার পাহাড়ে আমরা বসে আছি, সব্বাই। দলিতদের প্রতি বর্ণহিন্দুর ঘৃণা, হিন্দুদের প্রতি মুসলমানদের ঘৃণা, মুসলমানদের প্রতি হিন্দুদের ঘৃণা। জাতির প্রতি ঘৃণা, পরধর্মে ঘৃণা।ঘৃণা থেকে বেড়েছে দূরত্ব, দূরত্ব থেকে বেড়েছে অজ্ঞানতা।জ্ঞান নেই, তাই আস্থা নেই।আস্থা নেই, তাই অনেক কথাই না-বলা থেকে যায়।যে-কোনো মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড়ো পরীক্ষা হল পারস্পরিক আস্থা। আস্থা বা সমব্যাথী খুঁজতে খুঁজতেই সংঘবদ্ধতায় জোট বাঁধতে থাকে সংখ্যালঘু মানুষ। আমরা ভুলে যাই -- কোনো মুসলমান যদি কোনো একজন হিন্দুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাহলে সব রাগ গিয়ে পড়ে সমস্ত মুসলমান জাতির উপর, তেমনই কোনো হিন্দু যদি কোনো একজন মুসলমানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সেক্ষেত্রেও সব রাগ গিয়ে পড়ে সমস্ত হিন্দু জাতির উপর। তখন মানবধর্ম পরিহার করে বন্যধর্ম গ্রহণ করে ফেলে পৃথিবীর একমাত্র সভ্য জীব। চরম হঠকারিতায় ভুলে যাই সংযমই পুরস্কৃত করে, অসংযমে মৃত্যু।কেন আমরা নিভৃতে কিংবা প্রকাশ্যে অন্য ধর্ম বা অন্য ধর্মের লোকজনদের গালমন্দ করব অকারণে – সে প্রশ্নটাও নিজের কাছে নিজেকে করতে হবে।ভাবুন তো, যে মানুষটিকে এক্কেবারে কট্টর সাম্প্রদায়িক বলেই জানি, সেই মানুষই তো ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বন্ধু বা সহকর্মী ভিন্ন ধর্মের হলেও কী সখ্যতা, কী ঈর্ষণীয় মেলামেশা। ভিন্নধর্মী হলেও চেনাজানার জন্য একে অপরের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে কোনো বাধা নেই, তাই সাম্প্রদায়িকতাও নেই। সাম্প্রদায়িকতা আসলে নৈর্ব্যক্তিক, ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয়ই বন্ধনে আস্থা জোগায়। এটা বুঝতে হবে – সাম্প্রদায়িকতার উর্বর ক্ষেত্রই হল পরিচয়হীনতা, অজ্ঞানতা। বহুদিন অব্যবহারে স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে জাতি, তাই সঙ্গমের আগেই শীঘ্রপতন ! এটা জাতি ও ধর্মের দুর্বলতা, এ দুর্বলতা থেকে সকলকেই বেরিয়ে আসতে হবে।যে চরম সুখ থেকে মানুষ প্রতিদিন বঞ্চিত হয়, তাতে তো শেষপর্যন্ত মানুষেরই ক্ষতি হচ্ছে। হিন্দুরা হিন্দুদের পাড়ায় থাকবে, মুসলমানরা মুসলমানদের পাড়ায় থাকবে, ভট্টাচার্যরা ভট্টাচার্য পাড়ায় থাকবে, মণ্ডলরা মণ্ডল পাড়ায় থাকবে, দত্তরা দত্ত পাড়ায় থাকবে, বিশ্বাসরা বিশ্বাস পাড়ায় থাকবে -- এরপরেও ঐক্য চাইব ? শান্তি চাইব ? সম্প্রীতি চাইব ?

১৯২৯ সালে লিখিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্ধৃতি দিয়ে ছেদ টানি -- পৃথিবীতে দুটি ধর্মসম্প্রদায় আছে অন্য সমস্ত ধর্মমতের সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধতা অত্যুগ্র– সে হচ্ছে খৃস্টান আর মুসলমান-ধর্ম। তারা নিজের ধর্মকে পালন করেই সন্তুষ্ট নয়, অন্য ধর্মকে সংহার করতে উদ্যত। এইজন্যে তাদের ধর্ম গ্রহণ করা ছাড়া তাদের সঙ্গে মেলবার অন্য কোনো উপায় নেই। হিন্দুর ধর্ম মুখ্যভাবে জন্মগত ও আচারমূলক হওয়াতে তার বেড়া আরও কঠিন। মুসলমানধর্ম স্বীকার করে মুসলমানের সঙ্গে সমানভাবে মেলা যায়, হিন্দুর সে পথও অতিশয় সংকীর্ণ। আহারে ব্যবহারে মুসলমান অপর সম্প্রদায়কে নিষেধের দ্বারা প্রত্যাখ্যান করে না, হিন্দু সেখানেও সতর্ক। তাই খিলাফৎ উপলক্ষ্যে মুসলমান নিজের মসজিদে এবং অন্যত্র হিন্দুকে যত কাছে টেনেছে হিন্দু মুসলমানকে তত কাছে টানতে পারে নি। আচার হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্বন্ধের সেতু, সেইখানেই পদে পদে হিন্দু নিজের বেড়া তুলে রেখেছে। আমি যখন প্রথম আমার জমিদারি কাজে প্রবৃত্ত হয়েছিলুম তখন দেখেছিলুম, কাছারিতে মুসলমান প্রজাকে বসতে দিতে হলে জাজিমের এক প্রান্ত তুলে দিয়ে সেইখানে তাকে স্থান দেওয়া হত। অন্য-আচার-অবলম্বীদের অশুচি বলে গণ্য করার মতো মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলনের এমন ভীষণ বাধা আর কিছু নেই। ভারতবর্ষের এমনি কপাল যে, এখানে হিন্দু মুসলমানের মতো দুই জাত একত্র হয়েছে; ধর্মমতে হিন্দুর বাধা প্রবল নয়, আচারে প্রবল; আচারে মুসলমানের বাধা প্রবল নয়, ধর্মমতে প্রবল। এক পক্ষের যে দিকে দ্বার খোলা, অন্য পক্ষের সে দিকে দ্বার রুদ্ধ। এরা কী করে মিলবে। এক সময়ে ভারতবর্ষে গ্রীক পারসিক শক নানা জাতির অবাধ সমাগম ও সম্মিলন ছিল। কিন্তু মনে রেখো, সে ‘হিন্দু’-যুগের পূর্ববর্তী কালে। হিন্দুযুগ হচ্ছে একটা প্রতিক্রিয়ার যুগ– এই যুগে ব্রাহ্মণ্যধর্মকে সচেষ্টভাবে পাকা করে গাঁথা হয়েছিল। দুর্লঙ্ঘ্য আচারের প্রাকার তুলে এ কে দুষ্প্রবেশ্য করে তোলা হয়েছিল। একটা কথা মনে ছিল না, কোনো প্রাণবান জিনিসকে একেবারে আটঘাট বন্ধ করে সামলাতে গেলে তাকে মেরে ফেলা হয়। যাই হোক, মোট কথা হচ্ছে, বিশেষ এক সময়ে বৌদ্ধযুগের পরে রাজপুত প্রভৃতি বিদেশীয় জাতিকে দলে টেনে বিশেষ অধ্যবসায়ে নিজেদেরকে পরকীয় সংস্রব ও প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করবার জন্যেই আধুনিক হিন্দুধর্মকে ভারতবাসী প্রকাণ্ড একটা বেড়ার মতো করেই গড়ে তুলেছিল– এর প্রকৃতিই হচ্ছে নিষেধ এবং প্রত্যাখ্যান। সকলপ্রকার মিলনের পক্ষে এমন সুনিপুণ কৌশলে রচিত বাধা জগতে আর কোথাও সৃষ্টি হয় নি। এই বাধা কেবল হিন্দু মুসলমানে তা নয়। তোমার আমার মতো মানুষ যারা আচারে স্বাধীনতা রক্ষা করতে চাই, আমরাও পৃথক, বাধাগ্রস্ত। সমস্যা তো এই, কিন্তু সমাধান কোথায়। মনের পরিবর্তনে, যুগের পরিবর্তনে। য়ুরোপ সত্যসাধনা ও জ্ঞানের ব্যাপ্তির ভিতর দিয়ে যেমন করে মধ্যযুগের ভিতর দিয়ে আধুনিক যুগে এসে পৌঁচেছে হিন্দুকে মুসলমানকেও তেমনি গণ্ডির বাইরে যাত্রা করতে হবে। ধর্মকে কবরের মতো তৈরি করে তারই মধ্যে সমগ্র জাতিকে ভূতকালের মধ্যে সর্বতোভাবে নিহিত করে রাখলে উন্নতির পথে চলবার উপায় নেই, কারো সঙ্গে কারো মেলবার উপায় নেই। আমাদের মানসপ্রকৃতির মধ্যে যে অবরোধ রয়েছে তাকে ঘোচাতে না পারলে আমরা কোনোরকমের স্বাধীনতাই পাব না। শিক্ষার দ্বারা, সাধনার দ্বারা সেই মূলের পরিবর্তন ঘটাতে হবে– ডানার চেয়ে খাঁচা বড়ো এই সংস্কারটাকেই বদলে ফেলতে হবে– তারপরে আমাদের কল্যাণ হতে পারবে। হিন্দু মুসলমানের মিলন যুগপরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।

কেমন আছেন স্বাধীন ভারতের মুসলমানেরা ? কঠিন প্রশ্ন, স্পর্শকাতরও। শেষবেলায় একটা কথাই বলতে চাই – সংখ্যালঘু রসাতলে গেলে সংখ্যাগুরু শেষপর্যন্ত পার পেতে পারে না।ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, সাংবাধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ। এটা ভুলে যাওয়া মানে সংবিধানকে অবমাননা করা।বাংলাদেশ, পাকিস্তান কোনো দৃষ্টান্ত নয় – ভারতের দৃষ্টান্ত ভারত।ভারত কারোকে অনুসরণ করবে না, ভারত কারোকে অনুকরণ করবে না – ভারতকে অন্যেরা অনুসরণ করুক, অনুকরণ করুক। ভারতের কেবল ভারতীয়দের থাকার কথা – এখানে হিন্দু-মুসলমান-শিখ-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান থাকবে কেন ! কে সংখ্যাগুরু কে সংখ্যালঘু হিসাব করতে করতে সংখ্যাগুরুরা যদি সংখ্যালঘু হয়ে যায় ! (সমাপ্ত)

 

সাহায্যকারী গ্রন্থসমূহ :

(১) ভারতকোষ -- বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, কলিকাতা, ১৯৬৬,পাতা-৩০২ (২) K.S. Behera -- "Gloom and Bloom: The Case of Jagannatha Temples in Midnapore District" (৩)The Cult of Jagannātha -- Kanhu Charan Mishra, Published 1971 (৪) ইতিহাস ও সংস্কৃতি" -- শ্রী শ্যামাপদ ভৌমিক, [প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স, ২০০৯] (৫)“মেদিনীপুরের ইতিহাস”, কমল চৌধুরী সম্পাদিত, [দে'জ পাবলিশার্স, ২০১১] (৬) K.S. Behera, "Gloom and Bloom: The Case of Jagannatha Temples in Midnapore District" (৭) সিরাজউদ্দৌলার পতন -- ডঃ মোহর আলি, (৮) মানবাধিকার ও দলিত – দেবী চ্যাটার্জি, (৯) বাংলার সমাজে ইসলাম সূচনা পর্ব – অতীশ দাশগুপ্ত, (১০) মুসলিম সমাজ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক আলোচনা – মইনুল হাসান, (১১) তিন প্রসঙ্গ মৌলবাদ সন্ত্রাসবাদ জাতপাত – শ্যামল চক্রবর্তী, (১২) হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক – সম্পাদনা : হোসেনুর রহমান, (১৩) ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায় – গোলাম আহমেদ মোর্তজা, (১৪) ইতিহাসের ইতিহাস -- গোলাম আহমেদ মোর্তজা, (১৫) বাজেয়াপ্ত ইতিহাস -- গোলাম আহমেদ মোর্তজা, (১৬) চেপে রাখা ইতিহাস -- গোলাম আহমেদ মোর্তজা, (১৭) ভারতজনের ইতিহাস – বিনয় ঘোষ, (১৮) ভারতবর্ষের ইতিহাস – রোমিলা থাপার, (১৯) ভারতবর্ষ ও ইসলাম – সুরজিৎ দাশগুপ্ত, (২০) সাম্প্রদায়িকতাবাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি – প্রণব চট্টোপাধ্যায়, (২১) অনীক (অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫), (২২) ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান – এম. এন. রায় (অনুবাদ : আবদুল হাই) (২৩) মনীষা মঞ্জুষা -- ড. মোহম্মদ এনামুল হক (২৪) Islam and Indian Culture – Dr. B. N. Pandey (২৫) রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ -- শিবনাথ শাস্ত্রী (২৬) সিপাহী বিপ্লব, বেগম হজরত মহল ও নেটিভদের বিশ্বাসঘাতকতা -- মোহাম্মদ সিদ্দিক (২৭) ভারতের মুসলমান ও স্বাধীনতা আন্দোলন -- মোহাম্মদ ইনাম-উল-হক (২৮) সিপাহী বিপ্লব-স্বাধীনতা সংগ্রামের টার্নিং পয়েন্ট -- মোহাম্মদ আবদুল গফুর (২৯) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ও পরাধীন মুসলমান ১৭৫৭-১৮৫৭ : অতঃপর স্বাধীনতার সংগ্রাম -- এমরান জাহান (৩০) ভারতের জাতীয়তাবাদী বৈপ্লবিক সংগ্রাম -- সুপ্রকাশ রায় (৩১) উপনিবেশবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও বাংলা ভাগ – নুরুল কবীর (৩২) sanataninews (৩৩) ভারতীয় ঐতিহ্য ও গান্ধিবাদী অহিংসা – ডঃ রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী (৩৪) বেঙ্গল ডিভাইডেড: হিন্দু কম্যুনালিজম অ্যান্ড পার্টিশন : ১৯৩২-১৯৪৫ -- জয়া চ্যাটার্জি (৩৫) ১৯৫০ : রক্তরঞ্জিত ঢাকা বরিশাল এবং – ডঃ দীনেশচন্দ্র সিংহ (৩৬) আধুনিক ভারত : ১৮৮৫-১৯৪৭ – সুমিত সরকার (৩৭) জিহাদ – কে খান (৩৮) দেশবিভাগ : ফিরে দেখা – আহমদ রফিক (৩৯) নোয়াখালির গণহত্যা – শান্তনু সিংহ (৪০) পাক-ভারতের রূপকথা – প্রভাসচন্দ্র লাহিড়ী (৪১) বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস – আব্বাস আলি খান (৪২) মহাত্মা গান্ধী কেন মহাত্মা নন – মনোজ দাশ (৪৩) শ্যামাপ্রসাদ : বঙ্গবিভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ – ডঃ দীনেশচন্দ্র সিংহ (৪৪) উদ্বাস্তু – হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় (৪৫) জিন্না : পাকিস্তান নতুন ভাবনা – শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় (৪৬) বাংলায় মুসলমানের আটশো বছর – জাহিরুল হাসান (৪৭) দ্বিখণ্ডিতা মাতা, ধর্ষিতা ভগিনী – রবীন্দ্রনাথ দত্ত (৪৮) ইসলাম ও ভারতীয় সংস্কৃতি – ডঃ বি এন পাণ্ডে (৪৯) বাংলা ভাগ হল – আবু জাফর (৫০) ইসলামী শান্তি ও বিধর্মী সংহার – নুসরাত জাহান আয়েশা সিদ্দিকা (জয়শ্রী আচার্য) (৫১) পাকিস্তান প্রস্তাব ও ফজলুল হক – পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ (৫২) বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি -- বদরুদ্দিন উমর (৫৩) ইতিহাসের দিকে ফিরে : ছেচল্লিশের দাঙ্গা – সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৫৪) বাংলায় হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক – নজরুল ইসলাম (৫৫) দেশভাগের ইতিহাস – একটি বিনির্মাণ প্রয়াস – অসিত রায় (৫৬) ভারতের ইতিহাসকথা (দ্বিতীয় খণ্ড) – ডঃ কিরণচন্দ্র চৌধুরী (৫৭) ভারত ইতিহাস পরিক্রমা – শ্রী প্রভাতাংশু মাইতি (৫৮) ভারতবর্ষের ইতিহাস – গোপালচন্দ্র সিনহা (৫৯) ইসলামের ভারত অভিযান – কঙ্কর সিংহ (৬০) ইসলামের ইতিহাস – এ টি এম রফিকুল হাসান ও এম আবুল বাসার (৬১) আধুনিক ভারত ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ – বিপানচন্দ্র (৬২) বৈদিক সভ্যতা – ইরফান হাবিব ও বিজয়কুমার ঠাকুর (৬৩) আর্যরা কি ভারতের আদিম অধিবাসী – শ্যামল চক্রবর্তী ও সুজিত আচার্য (৬৪) ইসলাম ধর্মের রূপরেখা – রাহুল সাংকৃত্যায়ন (অনুবাদ : মলয় চট্টোপাধ্যায়)



Add this page to your favorite Social Bookmarking websites